স্মার্টফোন কেনার সময় বর্তমানে একটি ফিচার প্রায় সব ব্র্যান্ডেরই বিজ্ঞাপনে দেখা যায়, আর সেটি হলো ভার্চুয়াল র্যাম। বিশেষ করে কম বাজেটের ফোনগুলোতে ৪ জিবি র্যামের সাথে আরও ৪ জিবি বা ৮ জিবি ভার্চুয়াল র্যাম যোগ করার সুবিধা দেওয়ার কথা বেশ জোরেশোরে প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু এই বাড়তি র্যাম কি আসলেই আপনার বাজেট ফোনের গতি বাড়িয়ে দেয়, নাকি এটি ক্রেতা আকর্ষণের একটি চতুর কৌশল মাত্র? সাধারণ ব্যবহারকারী হিসেবে আমাদের জানা প্রয়োজন, এই প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে এবং এটি আমাদের দৈনন্দিন ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় কোনো বাস্তব পরিবর্তন আনে কি না।
স্মার্টফোনের মূল র্যাম অত্যন্ত দ্রুতগতির হয়ে থাকে, যা সচল অ্যাপগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রসেসরের সাথে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে। যখন ফোনে একই সাথে অনেক অ্যাপ চালানো হয় এবং মূল র্যামের জায়গা ফুরিয়ে আসে, তখন এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়। এটি ফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজ (ROM) থেকে কিছুটা অংশ ধার নিয়ে সাময়িকভাবে র্যাম হিসেবে ব্যবহার করে। এই প্রক্রিয়াকে অপারেটিং সিস্টেমের ভাষায় 'পেজিং' বা 'সোয়াপিং' বলা হয়।
এখানে মনে রাখা জরুরি যে, ফোনের মূল এলপিডিডিআর (LPDDR) র্যামের গতি আর ইন্টারনাল স্টোরেজের (যা সাধারণত বাজেট ফোনে eMMC ৫.১ বা UFS ২.১ প্রযুক্তির হয়ে থাকে) গতি এক নয়। মূল র্যামের গতি স্টোরেজের চেয়ে বহুগুণ বেশি। ফলে, স্টোরেজ থেকে ধার নেওয়া মেমোরি কখনোই মূল মেমোরির মতো দ্রুত কাজ করতে পারে না।
কম দামি বা বাজেট ফোনে সাধারণত ২ জিবি বা ৪ জিবি মূল র্যাম থাকে। এই ফোনগুলোতে যখন আপনি ভারী কোনো কাজ করেন, তখন সিস্টেম ব্যাকগ্রাউন্ডের অ্যাপগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। এখানেই ভার্চুয়াল র্যাম কিছুটা সাহায্য করে। এটি ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকা অ্যাপগুলোর ডাটা স্টোরেজে জমা রাখে, যাতে আপনি পুনরায় সেই অ্যাপে ফিরে গেলে সেটি একদম শুরু থেকে লোড না হয়ে আগের অবস্থা থেকেই চালু হতে পারে।
ভার্চুয়াল র্যাম ফোনের মাল্টিটাস্কিং ক্ষমতা কিছুটা উন্নত করলেও এটি ফোনের গেমিং পারফরম্যান্স বা মূল প্রসেসিং গতি এক চুলও বাড়াতে পারে না।
স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলো অনেক সময় তাদের বিজ্ঞাপনে এমনভাবে প্রচার করে যেন ৪ জিবি র্যামের ফোনটি এই ফিচারের মাধ্যমে ৮ জিবি র্যামের ফোনের সমান পারফর্ম করবে। বাস্তবে এটি সম্পূর্ণ অসম্ভব। সাধারণ ক্রেতারা অনেক সময় এই ফাঁদে পা দিয়ে ভাবেন যে তারা কম টাকায় বেশি শক্তিশালী ফোন পাচ্ছেন। কারিগরি দিক থেকে এটি একটি দরকারি ফিচার হলেও, যেভাবে এটিকে ফোনের গতি বাড়ানোর জাদুকরী উপায় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তা মূলত একটি চতুর বিপণন কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়।
আপনি যদি একটি নতুন স্মার্টফোন কেনার পরিকল্পনা করেন, তবে শুধুমাত্র ভার্চুয়াল র্যাম এর বিজ্ঞাপনী চমক দেখে ফোন নির্বাচন করবেন না। ফোনের মূল র্যাম এবং প্রসেসর কেমন, তার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
আপনার ফোনে কি এই ফিচারটি সচল রাখা আছে? এটি ব্যবহার করে আপনি কি ফোনের গতিতে কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন? কমেন্ট বক্সে আমাদের সাথে আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন!









