"আপনার পার্সেলটি ডেলিভারি করা সম্ভব হয়নি, ঠিকানা আপডেট করতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন"— সাম্প্রতিক সময়ে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের কাছে ভুয়া ডেলিভারি এসএমএস একটি নিত্যদিনের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষের ফোনে আসা এসব মেসেজ আসলে কোনো কুরিয়ার সার্ভিসের বার্তা নয়, বরং এটি অত্যন্ত সুসংগঠিত সাইবার অপরাধীদের পাতা ফাঁদ। অসাবধানতাবশত লিংকে ক্লিক করলেই খোয়া যেতে পারে ব্যক্তিগত তথ্য কিংবা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের টাকা। কিন্তু কেন হঠাৎ এই ধরনের ফেক মেসেজের বন্যা বয়ে যাচ্ছে এবং কীভাবে এই বিশাল নেটওয়ার্ক কাজ করছে, তা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
এই ধরণের স্ক্যাম মোটেও দু-একজনের কাজ নয়। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় নানা সাইবার অপরাধী চক্র অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই ভুয়া ডেলিভারি এসএমএস স্ক্যাম পরিচালনা করে আসছে। তারা প্রধানত ফিশিং টেকনিক ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সাইকোলজি বা মনস্তত্ত্ব নিয়ে খেলা করে। যখন কেউ সত্যি কোনো অনলাইন অর্ডার ডেলিভারির অপেক্ষায় থাকেন, তখন এমন মেসেজ পেলে বিভ্রান্ত হয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক।
মানুষের কৌতুহল এবং তাড়াহুড়ো করার মানসিকতাকে কাজে লাগিয়েই হ্যাকাররা তাদের ফাঁদ সফলভাবে বিস্তার করে।
অসংখ্য ব্যবহারকারীর মনে প্রশ্ন জাগে, প্রতারকরা কীভাবে তাদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর খুঁজে পায়? এর পেছনে রয়েছে বিশাল ডেটা ট্রেডিং এবং সাইবার ব্রিচ।
সাধারণত ভুয়া ডেলিভারি এসএমএস এর মাধ্যমে পাঠানো লিংকে ক্লিক করলে একটি ভুয়া কুরিয়ার সার্ভিসের ওয়েবসাইটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রি-ডেলিভারি ফি হিসেবে খুব সামান্য পরিমাণ টাকা দাবি করা হয় এবং ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চাওয়া হয়। আর একবার কার্ডের তথ্য দিলে বা ফোনে কোনো ক্ষতিকর এপিকে (APK) ফাইল ইনস্টল হয়ে গেলে অ্যাকাউন্ট খালি হতে সময় লাগে না।
অনলাইন কেনাকাটার যুগে ভুয়া ডেলিভারি এসএমএস থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা কঠিন, তবে সচেতনতা আপনাকে শতভাগ নিরাপদ রাখতে পারে। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো লিংক সংবলিত মেসেজ পেলে কখনোই তাতে স্পর্শ করবেন না। ডেলিভারি সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে সবসময় অফিসিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের সাহায্য নিন।
আপনার ফোনেও কি সম্প্রতি এমন কোনো ভুয়া পার্সেলের মেসেজ এসেছে? এ বিষয়ে আপনার অভিজ্ঞতা কমেন্ট বক্সে আমাদের জানান!









