ভুয়া ডেলিভারি এসএমএস: ভুয়া পার্সেল স্ক্যামের আসল রহস্য

4 মিনিট পঠিত মোবাইলে কেন বারবার ভুয়া ডেলিভারি এসএমএস বা ফেক পার্সেল মেসেজ আসে? জানুন এই বিশাল স্ক্যাম চক্রের রহস্য এবং সুরক্ষার উপায়। জুলাই 24, 2026 22:53 ভুয়া ডেলিভারি এসএমএস স্ক্যাম: কেন আসছে এই মেসেজ?

"আপনার পার্সেলটি ডেলিভারি করা সম্ভব হয়নি, ঠিকানা আপডেট করতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন"— সাম্প্রতিক সময়ে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের কাছে ভুয়া ডেলিভারি এসএমএস একটি নিত্যদিনের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষের ফোনে আসা এসব মেসেজ আসলে কোনো কুরিয়ার সার্ভিসের বার্তা নয়, বরং এটি অত্যন্ত সুসংগঠিত সাইবার অপরাধীদের পাতা ফাঁদ। অসাবধানতাবশত লিংকে ক্লিক করলেই খোয়া যেতে পারে ব্যক্তিগত তথ্য কিংবা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের টাকা। কিন্তু কেন হঠাৎ এই ধরনের ফেক মেসেজের বন্যা বয়ে যাচ্ছে এবং কীভাবে এই বিশাল নেটওয়ার্ক কাজ করছে, তা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

  • মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয় ভুয়া মেসেজ।
  • পার্সেল আটকে থাকার ভীতি দেখিয়ে ব্যবহারকারীকে লিংকে ক্লিক করানো হয়।
  • ফিশিং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও ব্যাংকিং তথ্য চুরি করা উদ্দেশ্য।

ভুয়া ডেলিভারি এসএমএস এর নেপথ্যে বিশাল হ্যাকার চক্র

এই ধরণের স্ক্যাম মোটেও দু-একজনের কাজ নয়। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় নানা সাইবার অপরাধী চক্র অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই ভুয়া ডেলিভারি এসএমএস স্ক্যাম পরিচালনা করে আসছে। তারা প্রধানত ফিশিং টেকনিক ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সাইকোলজি বা মনস্তত্ত্ব নিয়ে খেলা করে। যখন কেউ সত্যি কোনো অনলাইন অর্ডার ডেলিভারির অপেক্ষায় থাকেন, তখন এমন মেসেজ পেলে বিভ্রান্ত হয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক।

মানুষের কৌতুহল এবং তাড়াহুড়ো করার মানসিকতাকে কাজে লাগিয়েই হ্যাকাররা তাদের ফাঁদ সফলভাবে বিস্তার করে।

কীভাবে হ্যাকাররা লাখ লাখ ফোন নম্বর সংগ্রহ করে?

অসংখ্য ব্যবহারকারীর মনে প্রশ্ন জাগে, প্রতারকরা কীভাবে তাদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর খুঁজে পায়? এর পেছনে রয়েছে বিশাল ডেটা ট্রেডিং এবং সাইবার ব্রিচ।

নম্বর সংগ্রহের প্রধান উৎসসমূহ:

  • ডেটা লিক বা তথ্য চুরি: বিভিন্ন অনিরাপদ ওয়েবসাইট, থার্ড-পার্টি অ্যাপ অথবা শপিং প্ল্যাটফর্ম থেকে লিক হওয়া লাখ লাখ কন্টাক্ট নম্বর ডার্ক ওয়েবে বিক্রি হয়।
  • বাল্ক নম্বর জেনারেটর: হ্যাকাররা বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে এক ক্লিকেই হাজার হাজার র‍্যান্ডম মোবাইল নম্বর তৈরি করে নিতে পারে।
  • অটোমেটেড বোট ও সিম বক্স: বাল্ক মেসেজ পাঠাতে তারা অটোমেটেড 'সিম বক্স' প্রযুক্তি ও বোট সার্ভিস ব্যবহার করে, যা দিয়ে চোখের পলকে লাখ লাখ ফেক পার্সেল মেসেজ ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়।

লিংকে ক্লিক করলে কী হতে পারে?

সাধারণত ভুয়া ডেলিভারি এসএমএস এর মাধ্যমে পাঠানো লিংকে ক্লিক করলে একটি ভুয়া কুরিয়ার সার্ভিসের ওয়েবসাইটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রি-ডেলিভারি ফি হিসেবে খুব সামান্য পরিমাণ টাকা দাবি করা হয় এবং ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চাওয়া হয়। আর একবার কার্ডের তথ্য দিলে বা ফোনে কোনো ক্ষতিকর এপিকে (APK) ফাইল ইনস্টল হয়ে গেলে অ্যাকাউন্ট খালি হতে সময় লাগে না।

এই ফিশিং স্ক্যাম থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখবেন যেভাবে

অনলাইন কেনাকাটার যুগে ভুয়া ডেলিভারি এসএমএস থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা কঠিন, তবে সচেতনতা আপনাকে শতভাগ নিরাপদ রাখতে পারে। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো লিংক সংবলিত মেসেজ পেলে কখনোই তাতে স্পর্শ করবেন না। ডেলিভারি সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে সবসময় অফিসিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের সাহায্য নিন।

আপনার ফোনেও কি সম্প্রতি এমন কোনো ভুয়া পার্সেলের মেসেজ এসেছে? এ বিষয়ে আপনার অভিজ্ঞতা কমেন্ট বক্সে আমাদের জানান!

ব্যবহারকারীর মন্তব্য (0)

মন্তব্য যোগ করুন
আমরা আপনার ই-মেইল অন্য কারো সাথে শেয়ার করব না।